স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের দাসেরগাঁও শ্মশানেরবাগ এলাকায় ‘মেসার্স বন্ধু ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার মালিকানাধীন জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ‘আল্লাহর দান (এবিএস) ব্রিকস’-এর মালিক গোলাপ হোসেন ও ম্যানেজার নবী হোসেনের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোরও খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্ধু ব্রিকসের মালিকানাধীন জমি থেকে দীর্ঘ দিন ধরে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিচ্ছিল এবিএস ব্রিকস কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পুনরায় মাটি কাটতে দেখে বন্ধু ব্রিকসের শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবিএস ব্রিকসের মালিক গোলাপ হোসেন ও ম্যানেজার নবী হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাধা দেওয়ার জেরে গোলাপ হোসেন, নবী হোসেন, মামুন ও সজীবসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বন্ধু ব্রিকসের শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা সকলেই স্থানীয় চাঞ্চল্যকর ইটভাটা মালিক মোতালেব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এলাকায় তাদের একটি ভয়ংকর বাহিনী রয়েছে। গোলাপ হোসেন ফিল্মী স্টাইলে এসব অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে। প্রায়ই সে যে কোন হত্যা কিংবা বড় রকমের অপকর্ম করার আগে বিদেশ পাড়ি জমায়। তার অবর্তমানে তাদের বাহিনীর লোকজন পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের অপারেশন সম্পন্ন করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এবিএস ব্রিকস কর্তৃপক্ষ রাতের আঁধারে বন্ধু ব্রিকসের জমি থেকে প্রায় ৫০০ ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ৪৫০ ট্রাক মাটি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা মাত্র ২৫০ ট্রাক ফেরত দেয়। গত ২০ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অবশিষ্ট মাটি ফেরত না দিয়ে উল্টো আরও মাটি কেটে নিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় বন্ধু ব্রিকসের ম্যানেজার জাকিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
“আমরা আমাদের বৈধ জমি থেকে মাটি নিতে বাধা দেওয়ায় তারা অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা চাই। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।